অনলাইন ডেস্ক | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 21 বার পঠিত
আজ ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগে কমেছে মানুষ-বাঘের সংঘাত, বাঘ হত্যা ও পাচারের ঘটনা। একই সঙ্গে বেড়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যাও। সম্প্রতি শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়া একটি আহত রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে চিকিৎসা শেষে আবারও সুন্দরবনে অবমুক্ত করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বন বিভাগ।
সুন্দরবন বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের অন্যতম প্রধান ভাণ্ডার এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগারের শেষ নিরাপদ আবাসস্থল। এক সময় চোরাশিকার, বনভূমিতে মানুষের অনুপ্রবেশ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মানুষ-বাঘের সংঘাতের কারণে বাঘের অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও গত কয়েক বছরে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি, চোরাশিকারবিরোধী অভিযান, বনজীবীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আহত বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক ফল দিচ্ছে।
এর প্রতিফলন দেখা গেছে সর্বশেষ বাঘ গণনায়। ২০১৮ সালের জরিপে বাংলাদেশের অংশের সুন্দরবনে ১১৪টি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালের ক্যামেরা ট্র্যাপভিত্তিক সর্বশেষ জরিপে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে। বন সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি শুধু বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রমাণ নয়; বরং সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক পরিবর্তনেরও প্রতিফলন।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, রয়েল বেঙ্গল টাইগার শুধু একটি বন্যপ্রাণী নয়; এটি সুন্দরবনের পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাঘ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে সুন্দরবনের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যও সুরক্ষিত থাকবে।
বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বন বিভাগ জানিয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং ধারাবাহিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও রয়েল বেঙ্গল টাইগারের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে সুন্দরবনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
Posted ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah